1. ukhiyavoice24@gmail.com : HM Sahabuddin : HM Sahabuddin
  2. clients@ukhiyavoice24.com : UkhiyaVoice24 : Md Omar Faruk
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) এর উদ্যোগে এ কৃষক মাঠ দিবসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রামুর গর্জনিয়ায় থামছে না ইয়াবা বাণিজ্য,মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের জালে আটকা পড়লো ২ ব্যবসায়ী ঈদগাঁও’তে  চোলাই মদসহ ইউপি মেম্বার আটক রাজাপালং ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাল্য বিবাহ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণ সমাজের ভুমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা সম্পন্ন হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া দারুল হেদায়া মাদ্রাসা চাকবৈঠায় বার্ষিক সভায় হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী। উখিয়া উপজেলায় পিএফজির ফলোআপ মিটিং অনুষ্ঠিত। সকল কাউন্সিলরদের ভোট ও ডেলিকেটদের দোয়া করিম ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের অনুরুধ
শিরোনাম:
ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) এর উদ্যোগে এ কৃষক মাঠ দিবসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রামুর গর্জনিয়ায় থামছে না ইয়াবা বাণিজ্য,মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের জালে আটকা পড়লো ২ ব্যবসায়ী ঈদগাঁও’তে  চোলাই মদসহ ইউপি মেম্বার আটক রাজাপালং ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাল্য বিবাহ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণ সমাজের ভুমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা সম্পন্ন হলদিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া দারুল হেদায়া মাদ্রাসা চাকবৈঠায় বার্ষিক সভায় হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী। উখিয়া উপজেলায় পিএফজির ফলোআপ মিটিং অনুষ্ঠিত। সকল কাউন্সিলরদের ভোট ও ডেলিকেটদের দোয়া করিম ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের অনুরুধ

“নদীর পাড়ে একা একা দাড়িয়ে সূর্যের কিনারা দেখি”

  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে Print This Post Print This Post

ওমর ফারুকঃ- উখিয়া কক্সবাজার,

গেল সন্ধ্যায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছিল। আমাদের বাড়ির পাশের শীতলক্ষ্যা নদ, বৃষ্টি মেয়ের প্রেমে উচ্ছল, ক্ষণে ক্ষণে ঢলে পড়ছে! আমার খুব মন খারাপ, মরে যাওয়ার মতন। আমি নদীর পাড়ে একা বসে আছি। আম্মা থাপড় দিয়ে আমার মুখ ভোঁতা করে দিয়েছে। কিন্তু আমার তো কোনো দোষ ছিল না! রিপনের দাদি, ধবধবে ফরসা বলে যাকে সবাই পরি দাদি ডাকে, আমাকে বলে কি, ‘এই ছুড়ি, তোর তো জীবনে বিয়ে হবে না।

তুই দেখতে কেমন ময়লা। ময়লা মেয়েদের বিয়ে হয় জাওলাদের (জেলে) সঙ্গে, কিন্তু তোর তাও হবে না, তুই বেশি কালা, নাক বোঁচা।
এর দিন পাঁচেক আগে সিংহশ্রী ইউনিয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আমি ক্লাস ফাইভ এ ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি পাই। আশপাশের দশ গাঁয়ের মধ্যে আমিই একমাত্র মেয়ে যে এমন একটা পাশ দিয়েছি। চাচা, ফুফুরা খুশিই হয়েছেন। তবে আমার অন্য চাচাতো বোনেরা যাদের সঙ্গে আমি জড়াজড়ি করে বড় হচ্ছি তারা সবাই ভীষণ সুন্দরী। পাড়ার ছেলে-বুড়ো সবাই বলে ওদের খুব ভালো বর হবে, বড় ঘর হবে। আমি যতই দুপাতা বিদ্যা কপচাই না কেন আমাকে শেষমেশ আইবুড়ো হয়ে বাপের ঘরের খুঁটি হয়ে থাকতে হবে।

কিন্তু আমারতো খুব বিয়ের শখ! বিয়ের কন্যাকে কি সুন্দর করে সাজায়, আমার যদিও সোনা গয়না পছন্দ না, কেমন ছ্যারাব্যারা জবরজং লাগে! তবে পলা দি’র বিয়েতে যেমন মালাবদল হয়েছিল, কি স্নিগ্ধ বেলি ফুলের এত বড় মালা, আমার তেমনি মালা পরে কনে সাজতে কি ভালো লাগে। কিন্তু পরি দাদি যেহেতু বলেছেন, সেদিন কালামের মাও বলেছে আমার বিয়ে হবে না, আমি কালো, অসুন্দর। আমার কি যে টেনশন! কী করতে পারি আমি! বিয়ের চিন্তায় অঙ্ক ভুল হয়, লুকিয়ে লুকিয়ে আম্মার বেগম পত্রিকার গল্প পড়তেও আর আগের মতো আগ্রহ পাই না।
মিলি-ঝিলি-পলিদের দেখে দীর্ঘশ্বাস আরও বাড়ে! কি যে করি! তখন রেডিওতে হেনলাক্স রং ফরসা করার ক্রিমের বিজ্ঞাপন হয়, তেরো টাকা দাম। টাকা কই পাই? আমাদের তখন নুন আনতে পান্তা ফুরায়, প্রায়ই কাগজ কেনার টাকা থাকে না, কলাপাতায় বল পয়েন্ট কলম দিয়ে রাফ অঙ্ক করি। তেরো টাকা অনেক টাকা! এগারো বছর বয়সী আমি মনমরা হয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াই। জানি সব মানুষ মাটির তৈরি, তবে ভালো মাটি মানেই গায়ের রং ফরসা। আমি ভেবে পাই না কেন আমাকে গোয়াল ঘরের মেঝের মাটি দিয়ে বানাল! বিল্লাল, রাজীব ওরা আমার থেকেও কালো। কিন্তু বুঝতে হবে, ওরা তো ছেলে। আর ছেলে হলো খাঁটি সোনা। ব্যাকা হলেও লাখ টাকা দাম।

নাহ, এভাবে আর চলে না, বিয়ে না করে আমি থাকতে পারব না। আমার বেলি ফুলের মালা চাই, গন্ধরাজ তেল চাই, পা রাঙানো আলতা চাই, বেণি করার লাল ফিতে চাই ই চাই। বর ছাড়া কে দেয় এত! তা ছাড়া বিয়ে করা ফরজ, আইবুড়ো থাকলে বাপ মায়ের অমঙ্গল। আমার ফরসা হতেই হবে। শিং মাছ, শিমের বিচি, পাকা টমেটোর টক আর শুকনা বরই এর খাট্টা দিয়ে ভরপেট ভাত খেয়ে তিনটা চারটা নাগাদ বাড়ির সবাই ঘুমায়। এই সুযোগ! আম্মা আলমের ১ নম্বর পচা সাবান দিয়ে কাপর কাচে, খুব নাকি সাফ হয়। যাক বাবা, হাতের কাছে এত সুন্দর সমাধান! আর আমি কিনা ভেবে মরি। মনের সুখে সাবান গায়ে মাখি (এমনি গোসল এর সময় লাক্স সাবান মাখি, এখন আরও সাফ হওয়ার জন্য।

একটু পর আমার বুদ্ধি আরও বাড়ে। আমি ম্যারা পিঠার মতো এক কামড় দিয়ে পচা সাবানের অর্ধেকটা খেয়ে ফেলি। হুহ! ফরসা আমি হবই। তারপর বমি টমিই করে করে যাতা অবস্থা। মরেই যাই আরকি। তার ওপর আম্মার দুম্মুর দুম্মুর কিল। আমি কালো হওয়ার অপরাধে নদীর পাড়ে বসে একা একা কাঁদতেই থাকি।

লেখক,
ওমর ফারুক উখিয়া কক্সবাজার
যোগাযোগঃ- ০১৮৫৭-৬২১৮৩১

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
Copyright © 2020 UkhiyaVoice24
Theme Desiged By Kh Raad (Frilix Group)