1. clients@ukhiyavoice24.com : UkhiyaVoice24 : সাকিব খান
মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
লোহাগাড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটি গঠন বাঁশখালীর প্রবীন আলেম মাওলানা নুরুল হক (সুজিশ) সাহেবের ভোটের কৌশল কাব্য উখিয়ায় আন্ত: প্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্ট ২০২২ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ লোহাগাড়ায় বৌদ্ধ যুব সমিতির উদ্যোগে বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বর্ণাট্য মঙ্গল শোভাযাত্রা পাগলাপীর মসজিদের ইমামের ছেলে লাজু’র মৃত্যুতে শিউলী’র শোক প্রকাশ বাঁশখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাম্বল বাজারের ফল ব্যবসায়ী তমিজউদ্দীন নিহত। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বাথরুমে বাচ্চা প্রসব করলেন এক নারী
শিরোনাম:
উখিয়ার তরুণ প্রজন্মের আইডল ও জনবান্ধন জননেতা জনাব জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসায় গভীর রাতে ভাংচুর ও সন্ত্রাসী হামলাসহ মুহতামিমকে জোরপূর্বক ইস্তফা নামায় স্বাক্ষর করালেন আব্দুর রহিম গ্রেফতার চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের সাথে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সৌজন্যে সাক্ষাৎ জামিয়া পটিয়া মাদরাসায় সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রামুতে আঞ্চলিক ইত্তেহাদুল মাদারিসের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত উখিয়া ব্লাড ডোনেশন ইউনিট কর্তৃক আয়োজিত ৬৪ জেলা স্বেচ্ছাসেবীদের ৬তম বর্ষপূর্তি উদযাপন ও মিলন মেলা চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বান্দরবানে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনাল সংলগ্ন টানেল শুভ উদ্বোধন করেন- বীর বাহাদুর উশৈসিং অবিলম্বে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধিনে সুষ্ঠু নির্বাচন দিন,আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম নতুন কৌশলে শীর্ষ বালি কেখো উখিয়ার হরিণমারা এলাকার শীর্ষ চিহ্নত বালি কেখো তাকিয়ার নেতৃত্বে বালি উত্তোলন অব্যাহত বাংলাদেশের দিকে ধেঁয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় হামুন। সমুদ্র বন্দর গুলোকে ৪ নম্বর হুশিয়ার সংকেত জারি করেছে বিএমডি

“নদীর পাড়ে একা একা দাড়িয়ে সূর্যের কিনারা দেখি”

  • চালিয়ে যাও বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ওমর ফারুকঃ- উখিয়া কক্সবাজার,

গেল সন্ধ্যায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছিল। আমাদের বাড়ির পাশের শীতলক্ষ্যা নদ, বৃষ্টি মেয়ের প্রেমে উচ্ছল, ক্ষণে ক্ষণে ঢলে পড়ছে! আমার খুব মন খারাপ, মরে যাওয়ার মতন। আমি নদীর পাড়ে একা বসে আছি। আম্মা থাপড় দিয়ে আমার মুখ ভোঁতা করে দিয়েছে। কিন্তু আমার তো কোনো দোষ ছিল না! রিপনের দাদি, ধবধবে ফরসা বলে যাকে সবাই পরি দাদি ডাকে, আমাকে বলে কি, ‘এই ছুড়ি, তোর তো জীবনে বিয়ে হবে না।

তুই দেখতে কেমন ময়লা। ময়লা মেয়েদের বিয়ে হয় জাওলাদের (জেলে) সঙ্গে, কিন্তু তোর তাও হবে না, তুই বেশি কালা, নাক বোঁচা।
এর দিন পাঁচেক আগে সিংহশ্রী ইউনিয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আমি ক্লাস ফাইভ এ ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি পাই। আশপাশের দশ গাঁয়ের মধ্যে আমিই একমাত্র মেয়ে যে এমন একটা পাশ দিয়েছি। চাচা, ফুফুরা খুশিই হয়েছেন। তবে আমার অন্য চাচাতো বোনেরা যাদের সঙ্গে আমি জড়াজড়ি করে বড় হচ্ছি তারা সবাই ভীষণ সুন্দরী। পাড়ার ছেলে-বুড়ো সবাই বলে ওদের খুব ভালো বর হবে, বড় ঘর হবে। আমি যতই দুপাতা বিদ্যা কপচাই না কেন আমাকে শেষমেশ আইবুড়ো হয়ে বাপের ঘরের খুঁটি হয়ে থাকতে হবে।

কিন্তু আমারতো খুব বিয়ের শখ! বিয়ের কন্যাকে কি সুন্দর করে সাজায়, আমার যদিও সোনা গয়না পছন্দ না, কেমন ছ্যারাব্যারা জবরজং লাগে! তবে পলা দি’র বিয়েতে যেমন মালাবদল হয়েছিল, কি স্নিগ্ধ বেলি ফুলের এত বড় মালা, আমার তেমনি মালা পরে কনে সাজতে কি ভালো লাগে। কিন্তু পরি দাদি যেহেতু বলেছেন, সেদিন কালামের মাও বলেছে আমার বিয়ে হবে না, আমি কালো, অসুন্দর। আমার কি যে টেনশন! কী করতে পারি আমি! বিয়ের চিন্তায় অঙ্ক ভুল হয়, লুকিয়ে লুকিয়ে আম্মার বেগম পত্রিকার গল্প পড়তেও আর আগের মতো আগ্রহ পাই না।
মিলি-ঝিলি-পলিদের দেখে দীর্ঘশ্বাস আরও বাড়ে! কি যে করি! তখন রেডিওতে হেনলাক্স রং ফরসা করার ক্রিমের বিজ্ঞাপন হয়, তেরো টাকা দাম। টাকা কই পাই? আমাদের তখন নুন আনতে পান্তা ফুরায়, প্রায়ই কাগজ কেনার টাকা থাকে না, কলাপাতায় বল পয়েন্ট কলম দিয়ে রাফ অঙ্ক করি। তেরো টাকা অনেক টাকা! এগারো বছর বয়সী আমি মনমরা হয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াই। জানি সব মানুষ মাটির তৈরি, তবে ভালো মাটি মানেই গায়ের রং ফরসা। আমি ভেবে পাই না কেন আমাকে গোয়াল ঘরের মেঝের মাটি দিয়ে বানাল! বিল্লাল, রাজীব ওরা আমার থেকেও কালো। কিন্তু বুঝতে হবে, ওরা তো ছেলে। আর ছেলে হলো খাঁটি সোনা। ব্যাকা হলেও লাখ টাকা দাম।

নাহ, এভাবে আর চলে না, বিয়ে না করে আমি থাকতে পারব না। আমার বেলি ফুলের মালা চাই, গন্ধরাজ তেল চাই, পা রাঙানো আলতা চাই, বেণি করার লাল ফিতে চাই ই চাই। বর ছাড়া কে দেয় এত! তা ছাড়া বিয়ে করা ফরজ, আইবুড়ো থাকলে বাপ মায়ের অমঙ্গল। আমার ফরসা হতেই হবে। শিং মাছ, শিমের বিচি, পাকা টমেটোর টক আর শুকনা বরই এর খাট্টা দিয়ে ভরপেট ভাত খেয়ে তিনটা চারটা নাগাদ বাড়ির সবাই ঘুমায়। এই সুযোগ! আম্মা আলমের ১ নম্বর পচা সাবান দিয়ে কাপর কাচে, খুব নাকি সাফ হয়। যাক বাবা, হাতের কাছে এত সুন্দর সমাধান! আর আমি কিনা ভেবে মরি। মনের সুখে সাবান গায়ে মাখি (এমনি গোসল এর সময় লাক্স সাবান মাখি, এখন আরও সাফ হওয়ার জন্য।

একটু পর আমার বুদ্ধি আরও বাড়ে। আমি ম্যারা পিঠার মতো এক কামড় দিয়ে পচা সাবানের অর্ধেকটা খেয়ে ফেলি। হুহ! ফরসা আমি হবই। তারপর বমি টমিই করে করে যাতা অবস্থা। মরেই যাই আরকি। তার ওপর আম্মার দুম্মুর দুম্মুর কিল। আমি কালো হওয়ার অপরাধে নদীর পাড়ে বসে একা একা কাঁদতেই থাকি।

লেখক,
ওমর ফারুক উখিয়া কক্সবাজার
যোগাযোগঃ- ০১৮৫৭-৬২১৮৩১

ছাড়া দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একধম মিছা কথা
Copyright © 2020 UkhiyaVoice24
Theme Desiged By Kh Raad (Frilix Group)